ওয়েবসাইট কি - ওয়েবসাইট কাকে বলে

ওয়েবসাইট কি? ওয়েবসাইট কাকে বলে?

প্রযুক্তির এই যুগে ওয়েবসাইট আমাদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। অনলাইনে আমরা যা কিছু দেখি সবই কোনো না কোনো ওয়েবসাইটের অংশ। একটি ওয়েবসাইট তৈরি হতে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে যেতে হয়। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, ওয়েবসাইট কি এবং কীভাবে কাজ করে? চলুন, আজ জেনে নেওয়া যাক ওয়েবসাইটের পেছনের আদ্যোপান্ত।

ওয়েবসাইট কি?

ওয়েবসাইট হলো একগুচ্ছ ওয়েব পৃষ্ঠার সমষ্টি, যাকে অনলাইন তথ্য ভাণ্ডারও বলা হয়। একটি ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ধরনের তথ্য যেমন – লেখা, ছবি, ভিডিও এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যের সংগ্রহ যা একটি ডোমেইন নামের অধীনে সংগঠিত থাকে এবং এগুলোকে ইন্টারনেট বা ল্যানের মাধ্যমে অ্যাক্সেস করা যায়। ওয়েবসাইটগুলো তথ্য সরবরাহ, পণ্য বা পরিষেবা বিক্রি, বিনোদন প্রদান সহ বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।

ওয়েবসাইটের ইতিহাস বেশ আকর্ষণীয়। এর শুরুটা হয়েছিল ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে। ১৯৮৯ সালে সার্ন (CERN) -এর বিজ্ঞানী টিম বার্নার্স-লি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়ের (World Wide Web) তৈরি করেন। এটি ছিল ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য শেয়ার করার একটি নতুন প্রযুক্তি। ১৯৯০ সালে প্রথম ওয়েব ব্রাউজার ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WorldWideWeb) তৈরি করা হয়।

১৯৯১ সালে প্রথম ওয়েবসাইট info.cern.ch চালু করা হয়। ১৯৯৩ সালে মোজাইক (Mosaic) নামে একটি গ্রাফিক্যাল ওয়েব ব্রাউজার তৈরি করা হয়, যা ওয়েবের জনপ্রিয়তা বাড়াতে সাহায্য করে। ১৯৯৫ সালে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার (Internet Explorer) এবং নেটস্কেপ নেভিগেটর (Netscape Navigator) এর মতো জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজারগুলো চালু হয়।

২০০০-এর দশকের শুরুতে গুগল (Google), ফেসবুক (Facebook) এবং ইউটিউব (YouTube) এর মতো ওয়েবসাইটগুলো চালু হয়, যা ওয়েবের ব্যবহারকে আরও প্রসারিত করে। বর্তমানে অনলাইনে কোটি কোটি ওয়েবসাইট রয়েছে, যা বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ওয়েবসাইট কাকে বলে?

ওয়েবসাইট হলো একগুচ্ছ ওয়েব পেজের সমষ্টি, যা একটি একক ডোমেইন নামের অধীনে থাকে এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে অ্যাক্সেস করা যায়। এটি বিভিন্ন ধরনের তথ্য, ছবি, ভিডিও এবং অন্যান্য ডিজিটাল কনটেন্ট ধারণ করে।

সহজ কথায়, ওয়েবসাইট হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে অ্যাক্সেসযোগ্য একটি অনলাইন স্থান, যেখানে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা তাদের তথ্য, পণ্য বা পরিষেবা উপস্থাপন করতে পারে। আপনি এই মূহুর্তে যে আমাদের নকীব আইটি’র এই ব্লগটি পড়ছেন, এটাও একটি ওয়েবসাইটের অংশ।

ওয়েবসাইট কিভাবে কাজ করে?

ওয়েবসাইট কাজ করার প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে বিভক্ত। একটি ওয়েবসাইট মূলত ডোমেইন নাম, ওয়েব হোস্টিং, ওয়েব ব্রাউজার, আইপি অ্যাড্রেস, ওয়েব সার্ভার এবং হাইপারলিংকের মতো প্রযুক্তিগুলোর সমন্বয়ে কাজ করে।

. ডোমেইন নাম:

প্রতিটি ওয়েবসাইটের একটি অনন্য নাম থাকে, যাকে ডোমেইন নাম বলে। যেমন: google.com, facebook.com ইত্যাদি। এই ডোমেইন নাম ওয়েবসাইটের ঠিকানা হিসেবে কাজ করে।

২. ওয়েব হোস্টিং:

ওয়েবসাইটের সমস্ত ফাইলগুলো একটি কম্পিউটারে সংরক্ষণ করতে হয়, যা ওয়েব সার্ভার নামে পরিচিত। এই সার্ভারগুলো ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে এবং ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত থাকে। ওয়েবসাইটের ফাইলগুলো সার্ভারে রাখার প্রক্রিয়াকে ওয়েব হোস্টিং বলা হয়।

৩. ওয়েব ব্রাউজার:

যখন আপনি কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে চান, তখন নিশ্চয় আপনার কম্পিউটারে বা মোবাইলে একটি ওয়েব ব্রাউজার ব্যবহার করেন। যেমন: গুগল ক্রোম, ফায়ারফক্স, সাফারী ইত্যাদি। ব্রাউজারে আপনি ওয়েবসাইটের ডোমেইন নাম লিখে সার্চ করেন। আর এভাবেই মূলত একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হয়।

৪. আইপি অ্যাড্রেস:

ইন্টারনেটে প্রতিটি কম্পিউটারের একটি অনন্য ঠিকানা থাকে, যাকে আইপি অ্যাড্রেস বলে। ডোমেইন নাম সিস্টেম (DNS) ডোমেইন নামকে আইপি অ্যাড্রেসে রূপান্তরিত করে। ব্রাউজার এই আইপি অ্যাড্রেসের মাধ্যমে ওয়েব সার্ভারের সাথে যোগাযোগ করে।

৫. ওয়েব সার্ভার:

ওয়েব সার্ভার আপনার ব্রাউজারের অনুরোধ গ্রহণ করে এবং ওয়েবসাইটের ফাইলগুলো ব্রাউজারে পাঠায়। ব্রাউজার এই ফাইলগুলো লোড করে ওয়েবসাইটের পেজ গুলোকে আপনার স্ক্রিনে দেখায়।

৬. হাইপারলিংক:

ওয়েবসাইটের পেজগুলোতে হাইপারলিংক থাকে, যা ব্যবহারকারীদের এক পেজ থেকে অন্য পেজে যেতে সাহায্য করে। যখন আপনি কোনো লিংকে ক্লিক করেন, তখন ব্রাউজার আবার ওয়েব সার্ভারের কাছে অনুরোধ পাঠায় এবং নতুন পেজটি দেখায়।

এগুলো ছাড়াও একটি ওয়েবসাইট আরো বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে। যেমন- ডেটাবেজ, থিম, প্লাগইন, এসএসএল ইত্যাদি সহ আরো অনেক কিছুই। আমরা অনলাইনে থাকা ওয়েবসাইট গুলো খুবই সিম্পল প্রসেসে ব্যবহার করলেও এর পেছনে বিভিন্ন প্রযুক্তি সমন্বয়ে কাজ করে।

ওয়েবসাইট কেন প্রয়োজন?

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ওয়েবসাইট একটি অপরিহার্য হাতিয়ার। এর মাধ্যমে ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা তাদের তথ্য, পণ্য বা পরিষেবা বিশ্বব্যাপী প্রচার করতে পারে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের ক্ষেত্রে, একটি ওয়েবসাইট নিজের পরিচয় তুলে ধরতে, লেখালেখি বা ফটোগ্রাফির মতো শখের কাজ প্রদর্শন করতে এবং অন্যদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনে সাহায্য করে।

ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে একটি ওয়েবসাইট অনলাইন দোকান হিসেবে কাজ করে। গ্রাহকদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে এবং ব্র্যান্ডের পরিচিতি বাড়াতে পারে। এছাড়া, শিক্ষা, সাংবাদিকতা, এবং সরকারি পরিষেবা প্রদানের মতো অনেক ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ওয়েবসাইট তথ্যের একটি বিশাল উৎস। যেকোনো বিষয়ে জানতে, শিখতে বা গবেষণা করতে ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যায়। এটি বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট যেমন- লেখা, ছবি, ভিডিও এবং অডিও ধারণ করে, যা ব্যবহারকারীদের জন্য সহজলভ্য।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ফোরামের মাধ্যমে ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীরা একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে পারে, মতামত আদান-প্রদান করতে পারে এবং বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে পারে। ওয়েবসাইটগুলো ব্যবসায়িক এবং ব্যক্তিগত উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ওয়েবসাইট তৈরির ধাপসমূহ

একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে বিভিন্ন বিষয়ের প্রয়োজন হয়। আপনার নিজের জন্য যদি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান, তবে আপনাকে ওয়েবসাইট তৈরি করার নিয়ম জানতে হবে। অর্থাৎ, ওয়েবসাইট তৈরি করতে কোন কোন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।

. পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ:

ওয়েবসাইট তৈরির প্রথম ধাপ হলো এর উদ্দেশ্য এবং পরিকল্পনা নির্ধারণ করা। একটি সফল ওয়েবসাইটের ভিত্তি শক্তিশালী পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করে। আপনি কি ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তা প্রথমেই নির্ণয় করতে হবে।

২. ডোমেইন নাম ও হোস্টিং নির্বাচন:

ডোমেইন নাম হল আপনার ওয়েবসাইটের ঠিকানা, যা ব্যবহারকারীরা ব্রাউজারে টাইপ করে আপনার সাইটে পৌঁছাবে। একটি ভালো ডোমেইন নাম নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ, যা মনে রাখা সহজ এবং আপনার ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এরপর একটি নির্ভরযোগ্য ওয়েব হোস্টিং প্রদানকারী নির্বাচন করুন। ওয়েব হোস্টিং হলো সেই পরিষেবা, যা আপনার ওয়েবসাইটের ফাইলগুলো ইন্টারনেটে সক্রিয় রাখে। বিভিন্ন ধরনের হোস্টিং প্ল্যান থেকে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী একটি প্ল্যান বেছে নিন।

৩. ওয়েবসাইটের কাঠামো ও ডিজাইন

আপনার লক্ষ্য নির্ধারণ, ডোমেইন ও হোস্টিং কেনার পর, ওয়েবসাইটের কাঠামো ও সাইটের ডিজাইন দেখতে কেমন হবে তা নির্ধারণ করতে হবে। তারপর ফাইনালি ওয়েবসাইট তৈরির জন্য আপনাকে একজন প্রফেশনাল ওয়েব ডিজাইনার বা আপনার পছন্দের কোনো ওয়েবসাইট তৈরির কোম্পানিকে হায়ার করতে হবে। তারা আপনাকে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে দেবে।

শেষ কথা:

আজকের ডিজিটাল যুগে ওয়েবসাইট আমাদের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। এটি শুধু তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম, যা বিশ্বজুড়ে মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে। ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে এখন প্রায় সকল ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যও এক বা একাধিক ওয়েবসাইট রয়েছে।

আপনি যদি আপনার ব্র্যান্ডকে অনলাইনে প্রদর্শন করতে চান, তবে আপনার একটি ওয়েবসাইট থাকা অপরিহার্য।

রিলেটেড পোস্ট :-

বিজ্ঞাপন

আরো ব্লগ পড়ুন:

বর্তমান সময়ে এসইও (SEO) বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল মার্কেটিং স্কিল। এই স্কিলে

বর্তমান সময়ে প্রতিটি ছোট -বড় অনলাইন বিজনেসের জন্যই এক বা একাধিক ওয়েবসাইট রয়েছে। উদ্যোক্তাদের মধ্যে যারা

এসইও (SEO) এর সাথে ব্যাকলিংক ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। অফপেজ এসইওর মূল বিষয়বস্তুই হলো ব্যাকলিংক। ব্যাকলিংক কাকে