এসইও (SEO) এর সাথে ব্যাকলিংক ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। অফপেজ এসইওর মূল বিষয়বস্তুই হলো ব্যাকলিংক। ব্যাকলিংক কাকে বলে তা নতুনদের কাছে অনেকটা অপরিচিত। আবার ব্যাকলিংক কিভাবে একটি ওয়েবসাইটের এসইওকে প্রভাবিত করে, অর্থাৎ ব্যাকলিংক এর কাজ কি তা অনেকেরই অজানা।
আপনি যদি একজন ব্লগার বা ওয়েবসাইট রিলেটেড কোনো অনলাইন উদ্যোক্তা হয়ে থাকেন, তবে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে ব্যাকলিংক (Backlinks) সম্পর্কে। বিশেষ করে এসইও মার্কেটিং নিয়ে যাদের আগ্রহ আছে তাদের ক্ষেত্রে ব্যাকলিংকের জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
ব্যাকলিংক কি?
ব্যাকলিংক (Backlinks) হলো একটি ওয়েবসাইট থেকে অন্য ওয়েবসাইটে HTML অ্যাঙ্কর টেক্সট ব্যবহার করে দেওয়া লিংকে বুঝানো হয়। সহজ ভাষায়, আপনার ওয়েবসাইটের কোনো লিংক যখন অন্য ওয়েবসাইটে হাইপারলিংক সহ শেয়ার করা হয়, তখন এটিকে এসইওর ভাষায় ব্যাকলিংক বলে।
ব্যাকলিংক সাধারণত “ইনবাউন্ড লিঙ্ক” বা “ইনকামিং লিঙ্ক” নামেও পরিচিত। এটি একটি ওয়েবসাইটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান ও ওয়েবসাইট রেংকিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। বিশ্বের সকল সার্চ ইঞ্জিনই তাদের রেংকিং ফ্যাক্টর গুলোতে ব্যাকলিংকে প্রথম সারির রেংকিং ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচনা করে।
ব্যাকলিংক এর কাজ কি?
যখন একটি ওয়েবসাইট অন্য ওয়েবসাইট থেকে ব্যাকলিংক পায়, তখন সার্চ ইঞ্জিনগুলো এটিকে একটি ভোট হিসেবে বিবেচনা করে। অর্থাৎ, আপনার ওয়েবসাইটকে যখন কোনো অথরিটি বা বড় ওয়েবসাইট থেকে ব্যাকলিংক দেওয়া হয়, তখন ওটা সার্চ ইঞ্জিনকে সংকেত দেয় আপনার ওয়েবসাইটটি মূল্যবান, প্রাসঙ্গিক এবং বিশ্বাসযোগ্য।
ব্যাকলিংক সাধারণত একটি ওয়েবসাইটের র্যাঙ্কিং উন্নত করতে, ট্র্যাফিক বাড়াতে এবং আপনার দর্শকদের কাছে আপনার ওয়েবসাইটের দৃশ্যমানতা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে ব্যাকলিংক করার ক্ষেত্রে হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিংক সার্ভিস এর বিকল্প নেই।
ব্যাকলিংক কত প্রকার ও কি কি?
ব্যাকলিংকের HTML স্টাকচার অনুযায়ী ২ প্রকারে ভাগ করা যায়। যথা –
- ডুফলো ব্যাকলিংক (Dofollow Backlink)
- নোফলো ব্যাকলিংক (Nofollow Backlink)
১. ডুফলো ব্যাকলিংক (Dofollow Backlink):
ডুফলো ব্যাকলিংক হলো সেই ধরনের ব্যাকলিংক যা সার্চ ইঞ্জিনগুলোকে একটি ওয়েবসাইট থেকে অন্য ওয়েবসাইটে যাওয়ার অনুমতি দেয়। এই ধরনের ব্যাকলিংক সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ডুফলো ব্যাকলিংকগুলো সার্চ ইঞ্জিনকে বলে যে, এই ওয়েবসাইটটি অন্য ওয়েবসাইটের সাথে সংযুক্ত এবং এটি একটি মূল্যবান উৎস।
২. নোফলো ব্যাকলিংক (Nofollow Backlink):
নোফলো ব্যাকলিংক হলো সেই ধরনের ব্যাকলিংক যা সার্চ ইঞ্জিনগুলোকে একটি ওয়েবসাইট থেকে অন্য ওয়েবসাইটে যেতে বাধা দেয়। এই ধরনের ব্যাকলিংক সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের জন্য সরাসরি তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না, তবে এই ধরণের ব্যাকলিংক ওয়েবসাইটে রেফারেল ট্রাফিক আনতে সাহায্য করে।
কিভাবে ব্যাকলিংক তৈরি করবেন?
আপনার ওয়েবসাইটের এসইও ব্যাকলিংক প্রোফাইল সমৃদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন টাইপের ব্যাকলিংক করতে পারেন। তবে যেই ব্যাকলিংক গুলো এসইওতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর তার উপর দশটি বিভাগ উল্লেখ করা হলো: –
১. এডিটোরিয়াল ব্যাকলিংক
এডিটোরিয়াল ব্যাকলিংক হলো অন্য কোনো ওয়েবসাইটের কন্টেন্টের মধ্যে আপনার ওয়েবসাইটের লিঙ্ক যোগ করা। এই ধরনের ব্যাকলিংক সাধারণত কোনো টাকা বা বিনিময়ের মাধ্যমে তৈরি করা হয় না, বরং এটি অর্জিত হয় যখন অন্য ওয়েবসাইট আপনার ওয়েবসাইটের কন্টেন্টকে মূল্যবান মনে করে এবং তাদের পাঠকদের সাথে শেয়ার করতে চায়।
এডিটোরিয়াল ব্যাকলিংক তৈরি করার কয়েকটি সহজ উপায় নিচে দেওয়া হলো:
১. উচ্চ মানের কন্টেন্ট তৈরি করুন: আপনার ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট যদি তথ্যপূর্ণ, আকর্ষণীয় এবং মূল্যবান হয়, তবে অন্যান্য ওয়েবসাইট আপনার ব্যাকলিংক দিতে আগ্রহী হবে।
২. অন্যান্য ওয়েবসাইটের সাথে সম্পর্ক তৈরি করুন: আপনার নিশের অন্যান্য ওয়েবসাইট এবং ব্লগারদের সাথে যোগাযোগ করুন। তাদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করলে তারা আপনার কন্টেন্ট শেয়ার করতে এবং ব্যাকলিংক দিতে আগ্রহী হতে পারে।
৩. প্রাসঙ্গিক রিসোর্স তৈরি করুন: আপনার নিশের সাথে প্রাসঙ্গিক রিসোর্স তৈরি করুন, যেমন ইনফোগ্রাফিক, পরিসংখ্যান বা কেস স্টাডি। অন্যান্য ওয়েবসাইট এই রিসোর্সগুলো তাদের কন্টেন্টে ব্যবহার করতে পারে এবং আপনার ওয়েবসাইটকে ব্যাকলিংক দিতে পারে।
৪. সাংবাদিকদের সাথে যোগাযোগ করুন: আপনার নিশের সাংবাদিকদের সাথে যোগাযোগ করুন এবং তাদের আপনার কন্টেন্ট সম্পর্কে জানান। তারা আপনার কন্টেন্টকে তাদের প্রতিবেদনে ব্যবহার করতে পারে এবং আপনার ওয়েবসাইটকে ব্যাকলিংক দিতে পারে।
এডিটোরিয়াল ব্যাকলিংকগুলো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের জন্য খুবই মূল্যবান, কারণ এগুলো আপনার ওয়েবসাইটের কর্তৃত্ব এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করে।
২. গেস্ট ব্লগিং থেকে ব্যাকলিংক
গেস্ট ব্লগিং থেকে ব্যাকলিংক তৈরি করতে, প্রথমে আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটের সাথে সম্পর্কিত ওয়েবসাইট খুঁজে বের করতে হবে। তারপর, আপনাকে সেই ওয়েবসাইটের মালিকের সাথে যোগাযোগ করে গেস্ট পোস্ট লেখার প্রস্তাব দিতে হবে।
আপনার প্রস্তাব গৃহীত হলে, আপনাকে একটি মানসম্মত এবং তথ্যপূর্ণ গেস্ট পোস্ট লিখতে হবে। গেস্ট পোস্টে, আপনি আপনার ওয়েবসাইটের সাথে সম্পর্কিত কিছু তথ্য যোগ করতে পারেন এবং আপনার ওয়েবসাইটের লিঙ্ক যোগ করতে পারেন। গেস্ট পোস্ট প্রকাশিত হলে, আপনি আপনার ওয়েবসাইটের জন্য একটি ব্যাকলিংক পাবেন।
৩. প্রোফাইল ব্যাকলিংক
প্রোফাইল ব্যাকলিংক হলো বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যেমন সোশ্যাল মিডিয়া, ফোরাম, ব্লগিং সাইট ইত্যাদিতে আপনার প্রোফাইল তৈরি করে সেখানে আপনার ওয়েবসাইটের লিঙ্ক যুক্ত করা। এটি এসইও-এর জন্য সরাসরি তেমন কোনো প্রভাব না ফেললেও, ওয়েবসাইটে ট্রাফিক আনতে সাহায্য করে।
প্রোফাইল ব্যাকলিংক তৈরি করার কয়েকটি ধাপ:
১. বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রোফাইল তৈরি করুন: ফেসবুক, টুইটার, লিঙ্কডইন, ইনস্টাগ্রাম, পিন্টারেস্ট, মিডিয়াম, কোরা ইত্যাদি প্ল্যাটফর্মে আপনার প্রোফাইল তৈরি করুন।
২. প্রোফাইল সম্পূর্ণ করুন: আপনার প্রোফাইলে আপনার সম্পর্কে, আপনার ব্যবসা সম্পর্কে এবং আপনার ওয়েবসাইট সম্পর্কে তথ্য দিন।
৩. ওয়েবসাইটের লিঙ্ক যুক্ত করুন: আপনার প্রোফাইলের “ওয়েবসাইট” বা “সম্পর্কে” বিভাগে আপনার ওয়েবসাইটের লিঙ্ক যুক্ত করুন।
৪. ব্রোকেন লিংক বিল্ডিং
ব্রোকেন লিংক বিল্ডিং হলো এমন একটি ব্যাকলিংক করার কৌশল, যেখানে অন্যান্য ওয়েবসাইটে অকার্যকর লিঙ্ক খুঁজে বের করা হয় এবং সেগুলোকে আপনার ওয়েবসাইটের কার্যকরী লিঙ্ক দিয়ে প্রতিস্থাপন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এটি একটি কার্যকর পদ্ধতি, কারণ এতে ওয়েবসাইট মালিক তাদের সাইটের অকার্যকর লিঙ্কগুলো সংশোধন করতে পারে এবং আপনি আপনার ওয়েবসাইটের জন্য একটি মূল্যবান ব্যাকলিংক পেতে পারেন।
ব্রোকেন লিংক বিল্ডিং প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করা হয়:
১. ব্রোকেন লিঙ্ক খুঁজে বের করা: প্রথমে, আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটের বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য ওয়েবসাইটে অকার্যকর বা ব্রোকেন লিঙ্ক খুঁজে বের করতে হবে। এর জন্য আপনি বিভিন্ন অনলাইন এসইও টুল ব্যবহার করতে পারেন। যেমন – Ahrefs, SEMRUSH ইত্যাদি।
২. লিঙ্কের প্রাসঙ্গিকতা যাচাই করা: খুঁজে পাওয়া লিঙ্কগুলো আপনার ওয়েবসাইটের বিষয়ের সাথে কতটা প্রাসঙ্গিক, তা যাচাই করতে হবে। প্রাসঙ্গিক লিঙ্ক খুঁজে পেলে, সেগুলো প্রতিস্থাপনের জন্য উপযুক্ত।
৩. ওয়েবসাইট মালিকের সাথে যোগাযোগ: এরপর, আপনাকে ওয়েবসাইট মালিকের সাথে যোগাযোগ করে তাদের অকার্যকর লিঙ্কগুলোর কথা জানাতে হবে এবং আপনার ওয়েবসাইটের কার্যকরী লিঙ্ক দিয়ে সেগুলো প্রতিস্থাপন করার প্রস্তাব দিতে হবে।
৪. লিঙ্ক প্রতিস্থাপন: ওয়েবসাইট মালিক যদি আপনার প্রস্তাবে রাজি হন, তবে তারা তাদের ওয়েবসাইটে আপনার লিঙ্কটি প্রতিস্থাপন করবেন।
ব্রোকেন লিংক বিল্ডিং একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া, তবে এটি আপনার ওয়েবসাইটের জন্য উচ্চ মানের ব্যাকলিংক তৈরি করার একটি কার্যকর উপায়।
৫. ইনফোগ্রাফিক থেকে ব্যাকলিংক
ইনফোগ্রাফিক থেকে ব্যাকলিংক তৈরি করতে, আপনাকে প্রথমে একটি আকর্ষণীয় এবং তথ্যপূর্ণ ইনফোগ্রাফিক তৈরি করতে হবে। আপনার ইনফোগ্রাফিকটি এমন হওয়া উচিত যা দেখে দর্শনার্থীরা শেয়ার করতে আগ্রহী হয়। এরপর, আপনার ইনফোগ্রাফিকটি অন্যান্য ওয়েবসাইটে শেয়ার করুন।
আপনি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, ব্লগ এবং ফোরামে আপনার ইনফোগ্রাফিক শেয়ার করতে পারেন। যখন অন্যান্য ওয়েবসাইট আপনার ইনফোগ্রাফিক শেয়ার করবে, তখন তারা আপনার ওয়েবসাইটের লিঙ্কও শেয়ার করবে।
তবে একটি মানসম্মত ইনফোগ্রাফিক তৈরি করা অনেক সময়ের ব্যাপার। কিন্তু আপনি যদি কষ্ট করে একটি মানসম্মত ব্যাকলিংক তৈরি করতে পারেন, তবে ইনফোগ্রাফিক থেকে উচ্চ মানের ব্যাকলিংক পাওয়া একটি দুর্দান্ত উপায়।
৬. রিসোর্স পেজ থেকে ব্যাকলিংক
রিসোর্স পেজ থেকে ব্যাকলিংক তৈরি করতে, প্রথমে আপনার ওয়েবসাইটের বিষয়ের সাথে প্রাসঙ্গিক রিসোর্স পেজ খুঁজে বের করতে হবে। তারপর, সেই রিসোর্স পেজের মালিকের সাথে যোগাযোগ করে আপনার ওয়েবসাইটের লিঙ্ক যুক্ত করার অনুরোধ জানাতে হবে।
যদি আপনার ওয়েবসাইটটি রিসোর্স পেজের বিষয়বস্তুর সাথে মানানসই হয় এবং মূল্যবান তথ্য প্রদান করে, তবে তারা আপনার লিঙ্ক যুক্ত করতে রাজি হবে। রিসোর্স পেজ থেকে ব্যাকলিংক সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের জন্য খুবই কার্যকর, কারণ এটি আপনার ওয়েবসাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং কর্তৃত্ব বাড়াতে সাহায্য করে।
৭. ফোরাম পোস্টিং থেকে ব্যাকলিংক
ফোরাম পোস্টিং থেকে ব্যাকলিংক তৈরির জন্য, প্রথমে আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটের সাথে প্রাসঙ্গিক ফোরামগুলো খুঁজে বের করতে হবে। তারপর, ফোরামগুলোতে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন এবং আলোচনায় অংশ নিন।
আলোচনায় অংশ নেওয়ার সময়, আপনার ওয়েবসাইটের লিঙ্ক প্রাসঙ্গিক আলোচনায় শেয়ার করুন। আপনি যদি এই নিয়মগুলো অনুসরণ করেন, তবে ফোরাম পোস্টিং থেকে ব্যাকলিংক তৈরি করা আপনার জন্য সহজ হবে।
৮. ইমেজ শেয়ারিং ব্যাকলিংক
ইমেজ শেয়ারিং ব্যাকলিংক তৈরি করার জন্য, প্রথমে আপনার ওয়েবসাইটের সাথে সম্পর্কিত আকর্ষণীয় এবং উচ্চ-মানের ছবি তৈরি করুন। এরপর, ফ্লিকার, পিন্টারেস্ট, ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় ইমেজ শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে আপনার ছবিগুলো আপলোড করুন।
ছবি আপলোড করার সময়, ছবির ক্যাপশন এবং বিবরণ অংশে আপনার ওয়েবসাইটের লিঙ্ক যোগ করুন। এছাড়াও, ছবির সাথে প্রাসঙ্গিক ট্যাগ ব্যবহার করুন, যাতে ব্যবহারকারীরা সহজেই আপনার ছবি খুঁজে পেতে পারে।
অন্যান্য ওয়েবসাইট বা ব্লগে আপনার ছবিগুলো শেয়ার করুন এবং তাদের আপনার ওয়েবসাইটের লিঙ্ক দিতে বলুন। আপনার ছবিগুলো যদি আকর্ষণীয় হয়, তবে অন্যান্য ওয়েবসাইট বা ব্লগাররা আপনার ছবি শেয়ার করতে আগ্রহী হবে, যা আপনার ওয়েবসাইটের জন্য ব্যাকলিংক তৈরি করতে সাহায্য করবে।
৯. ওয়েব ২.০ ব্যাকলিংক
ওয়েব ২.০ ব্যাকলিংক তৈরি করতে, প্রথমে ব্লগার, ওয়ার্ডপ্রেস, উইক্স ইত্যাদি প্ল্যাটফর্মে একটি ব্লগ তৈরি করুন। ব্লগের বিষয়বস্তু আপনার ওয়েবসাইটের বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত হতে হবে। এরপর, ব্লগে মানসম্মত এবং তথ্যপূর্ণ কন্টেন্ট তৈরি করুন।
কন্টেন্টের মধ্যে আপনার ওয়েবসাইটের লিঙ্ক যুক্ত করুন। লিঙ্কটি এমনভাবে যুক্ত করুন যাতে তা স্বাভাবিক এবং প্রাসঙ্গিক মনে হয়। ব্লগে নিয়মিত নতুন কন্টেন্ট যোগ করুন এবং অন্যান্য ওয়েবসাইটের সাথে লিঙ্ক শেয়ার করুন। আপনি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মেও আপনার ব্লগের লিঙ্ক শেয়ার করতে পারেন।
১০. ডিরেক্টরি ব্যাকলিংক
ডিরেক্টরি ব্যাকলিংক তৈরি করার জন্য প্রথমে আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য প্রাসঙ্গিক ডিরেক্টরি খুঁজে বের করতে হবে। এরপর, ডিরেক্টরি ওয়েবসাইটে আপনার ওয়েবসাইটের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, ইমেল ঠিকানা এবং ওয়েবসাইটের লিঙ্ক যোগ করতে হবে।
ডিরেক্টরি ব্যাকলিংক তৈরি করার সময়, নিশ্চিত করুন যে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের জন্য প্রাসঙ্গিক এবং উচ্চ-মানের ডিরেক্টরি নির্বাচন করছেন। এছাড়াও, ডিরেক্টরি ওয়েবসাইটে আপনার ওয়েবসাইটের সঠিক তথ্য যোগ করুন।
ব্যাকলিংক করার ক্ষেত্রে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে
ব্যাকলিংক তৈরি করার সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখা দরকার। প্রথমত, প্রাসঙ্গিক এবং মানসম্মত ওয়েবসাইট থেকে ব্যাকলিংক তৈরি করার চেষ্টা করুন। অপ্রাসঙ্গিক বা নিম্নমানের ওয়েবসাইট থেকে ব্যাকলিংক তৈরি করলে আপনার ওয়েবসাইটের র্যাঙ্কিং ভালো হওয়ার বদলে খারাপ হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, ধীরে ধীরে ব্যাকলিংক তৈরি করুন। একসাথে অনেক ব্যাকলিংক তৈরি করলে সার্চ ইঞ্জিন স্প্যামিং মনে করতে পারে। তৃতীয়ত, বিভিন্ন ধরনের ব্যাকলিংক তৈরি করুন। শুধুমাত্র এক ধরনের ব্যাকলিংক তৈরি করলে আপনার ওয়েবসাইটের ব্যাকলিংক প্রোফাইল অস্বাভাবিক মনে হতে পারে।
চতুর্থত, নো-ফলো এবং ডু-ফলো ব্যাকলিংকের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখুন। শুধুমাত্র ডু-ফলো ব্যাকলিংক তৈরি করলে সার্চ ইঞ্জিন সন্দেহ করতে পারে। পঞ্চমত, নিয়মিত ব্যাকলিংক প্রোফাইল পর্যবেক্ষণ করুন এবং অপ্রাসঙ্গিক বা ক্ষতিকারক ব্যাকলিংক সরিয়ে ফেলুন।
এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখলে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের জন্য একটি শক্তিশালী এবং প্রাকৃতিক ব্যাকলিংক প্রোফাইল তৈরি করতে পারবেন। যেটা সত্যিই আপনার ওয়েবসাইটের রেংকিং বাড়াবে এবং আপনার ব্যবসাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।


